হরমুজ সংকট

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা নিয়ে ওপেক ও আইইএ মতভেদ

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।

এ পরিস্থিতিতে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা কেমন থাকবে, তা নিয়ে ভিন্ন পূর্বাভাস দিয়েছে প্রধান আন্তর্জাতিক দুটি সংস্থা। প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের এ বিপরীতমুখী অবস্থান বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। খবর ইউরো নিউজ।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে দুটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। আইইএর ধারণা, করোনা মহামারীর পর চলতি বছরই প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমতে পারে। অন্যদিকে ওপেকের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বাধা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা শেষ পর্যন্ত বাড়তেই থাকবে। সংস্থা দুটির প্রাক্কলিত চাহিদার পার্থক্য প্রায় ২২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

আইইএর আগস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে দৈনিক জ্বালানি তেলের চাহিদা ১৬ লাখ ব্যারেল কমতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানটির আগের পূর্বাভাস থেকে প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল কম। সংস্থাটি জানায়, দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম সার্বিক ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) দৈনিক চাহিদার প্রাক্কলন আরো সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল কমানো হয়েছে। এর বিপরীতে ওপেক জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী। টানা চতুর্থ মাসের মতো সংস্থাটি দৈনিক প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ৭ লাখ ৮০ হাজার থেকে কমিয়ে ৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নামিয়েছে। তবে একে পতন নয়, বরং প্রবৃদ্ধি হিসেবেই দেখছে সংস্থাটি। ওপেকের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি তেলের চাহিদায় ততটা ক্ষতি করতে পারেনি, যতটা পশ্চিমা বিশ্লেষকরা দাবি করছেন।

উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতি সংকটকে আরো গভীর করেছে। জুলাইয়ে বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন ২৪ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১০ কোটি ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছলেও তা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৩ লাখ ব্যারেল কম।

সামরিক উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দৈনিক ৮৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ট্যাংকারে হামলায় হরমুজ দিয়ে রফতানি দুই কোটি ব্যারেল থেকে কমে ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মজুদও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

আইইএর মতে, জুলাইয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মজুদ প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল কমে ৭৯০ কোটি ব্যারেলে নেমেছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তেল সরবরাহ আরো কমতে পারে। তবে ২০২৭ সালে সমুদ্রপথের অচলাবস্থা কাটলে এবং ভূরাজনৈতিক উত্তাপ কমলে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলে দুই সংস্থাই আশা প্রকাশ করেছে।

আরও